top of page

Composite LPG Cylinder – লোহার গ্যাস সিলিন্ডার বাতিল। প্রত্যেকের বাড়িতে কম্পোজিট সিলিন্ডার নিতে হবে।

সমস্ত দেশবাসীর জন্য LPG Gas Cylinder নিয়ে বড় খবর! সারা দেশের সমস্ত গ্যাস সিলিন্ডার বদলে Composite LPG Cylinder তথা প্লাস্টিক বা ফাইবারের মতো বিশেষ উপাদান দিয়ে তৈরী গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করতে হবে। কি কারনে এই নির্দেশ? গ্রাহকদের কি করতে হবে? কত টাকা জমা করতে হবে? কত দিনের মধ্যে এই নতুন Composite LPG Cylinder নিতে হবে। সমস্ত নিয়ম কানুন জেনে নিন।



কেন্দ্রীয় সরকার নয়া নিয়ম চালু করতে চলেছে নিত্য প্রয়োজনীয় রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে। কয়েকদিন আগেই এ বিষয়ে সংবাদ মিলেছে সরকার মারফত। রান্নার গ্যাস বর্তমানে সবচেয়ে মহার্ঘ জিনিস। একটিমাত্র গ্যাস সিলিন্ডার ক্রয় করতে হিমশিম খায় সাধারণ মানুষ। তবুও কেন্দ্রীয় সরকার এ বছরের আগস্ট মাসে গ্যাসের দাম ২০০ টাকা কম করায় খানিকটা স্বস্তি পেয়েছে দেশবাসী। কিন্তু সম্প্রতি জানা গেছে আবারও নাকি বাড়তে চলেছে এই গ্যাসের দাম। তবে এবারে কেবল ১০০ বা ২০০ টাকা নয়, একসঙ্গে নগদ ৮০০ টাকা বেশি লাগবে গ্যাস সিলিন্ডারের দরুন। যা শুনে সকল মধ্যবিত্তদের মাথায় হাত পড়ার মতো অবস্থা হয়েছে এখন।

বর্তমানে আমরা যে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার গুলি ব্যবহার করি সেগুলি হয় লোহার বা ধাতব তৈরি। কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে এই ধরনের সিলিন্ডার গুলিতে অনেক রকম অসুবিধা থাকে। এমনকি এই লোহার সিলিন্ডারের ফলে প্রাণহানিও অনেক সময় ঘটে থাকে ব্যবহারকারীর। তাই বর্তমানে তারা চিন্তা ভাবনা করেছেন Composite LPG Cylinder তথা নতুন ধরনের সিলিন্ডার বাজারে আনার।

কেন্দ্র মারফত জানানো হয়েছে, এবার থেকে গ্যাস বিক্রি করা হবে কম্পোজিট সিলিন্ডারে (Composite LPG Cylinder) ভরে। এই সিলিন্ডার গুলি লোহা তৈরি হবে না। পরিবর্তে ফাইবার দিয়ে তৈরি হবে তা। ফলে হবে ওজনে একদম হালকা। সেই সঙ্গে বাঁচাবে রান্নার গ্যাসের খরচ। এমনকি এই সিলিন্ডার নাকি লিক বা দুর্ঘটনা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এছাড়াও আরো নানা ধরনের সুবিধা রয়েছে এই সিলিন্ডার গুলিতে। তাই বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকার নিশ্চিত করেছে যে অতি শীঘ্রই দেশে এই সিলিন্ডার চালু করা হবে এবং তারপর থেকে গ্যাস কেনার জন্য অতিরিক্ত খরচ দিতে হবে সকল মানুষকে।

Benefits of Composite LPG Cylinder

এক নজরে কম্পোজিট সিলিন্ডারের সুবিধাঃ

· ওজনে হালকা

· স্থায়ী ও নিরাপদ

· উৎপাদন খরচ কম

· দুর্ঘটনার চান্স নেই

১) লোহার সিলিন্ডার গুলি ওজনে অত্যন্ত ভারী হয়। তাই এগুলি এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া কষ্টকর ব্যাপার। কিন্তু নতুন যে কম্পোজিট সিলিন্ডার (Composite LPG Cylinder) গুলি আসছে সেগুলি হালকা ফাইবার ধাতু দিয়ে তৈরি। যার ফলে এগুলিকে তোলা পড়া অনেকটা সহজসাধ্য হবে।

২) লোহার সিলিন্ডারের একটি অন্যতম অসুবিধা হলো এখানে বাইরে থেকে দেখে বোঝা যায় না কতটা গ্যাস অবশিষ্ট রয়েছে। আপনারা হয়তো জানেন না, কিন্তু অনেক সময় আমরা গ্যাস থাকা সত্ত্বেও খালি ভেবে সিলিন্ডার বাতিল করে দিই। তাতে ক্ষতি হয় আমাদেরই। কিন্তু কম্পোজিট সিলিন্ডার (Composite LPG Cylinder) গুলিতে আপনি বাইরে থেকে দেখে বুঝতে পারবেন কতটা গ্যাস এখনো বেঁচে রয়েছে। ফলে একটুও গ্যাস আর নষ্ট হবে না।

৩) বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বর্তমানে রান্নার যে লোহার গ্যাস সিলিন্ডার গুলি ব্যবহার করা হয় সেগুলিতে প্রাণহানির ও ঝুঁকি রয়েছে যথেষ্ট। কোন কারনে যদি গ্যাস জনিত দুর্ঘটনা ঘটে তাহলে লোহার সিলিন্ডার ফেটে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থাকে বেশি। সেই সম্ভাবনা কম্পোজিট সিলিন্ডারে (Composite LPG Cylinder)নেই। এই সিলিন্ডার লিক হবে না। আর হলেও গরম হয়ে ফাটল বা ছিদ্র আপনা আপনি সিল করে দেবে। এদিক থেকে এই ধরনের সিলিন্ডার আরো সুবিধা জনক।

৪) রান্নার বর্তমান গ্যাস সিলিন্ডার গুলি লোহা দিয়ে তৈরি হওয়ায় পুরনো হয়ে গেলে এগুলিতে মরচে ধরে সহজে। যার কারণে সিলিন্ডার ক্রমশ ভঙ্গুর হতে শুরু করে। ফলে সিলিন্ডার ফেটে প্রাণহানি ঘটার আশঙ্কা থাকে। আবার মেঝেতে এই সিলিন্ডার রাখলে সেখানেও দাগ পড়ে যায়। কিন্তু কম্পোজিট সিলিন্ডার ফাইবার দিয়ে তৈরি হওয়ায় দুয়ের কোন অসুবিধাই নেই এখানে।

কত টাকা বেশি লাগবে? কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে প্রত্যেক ব্যবহারকারী যারা এই কম্পোজিট সিলিন্ডার নেবেন তাদেরকে একটি ডিপোজিট চার্জ জমা করতে হবে। এই ডিপোজিট চার্জ হল ৩০০০ টাকা। আপনি বর্তমানে যে লোহার গ্যাস সিলিন্ডার টি ব্যবহার করেন সেটি কেনার সময় ২২০০ টাকা সরকারকে দিতে হয়েছে আপনাকে। সেক্ষেত্রে কম্পোজিট সিলিন্ডার যদি আপনি কিনতে চান তাহলে এর ওপর আরও ৮০০ টাকা দিলেই সিলিন্ডার ঘরে পৌঁছে যাবে আপনার।

কবে এই সিলিন্ডার নিতে হবে? চলতিবছর মার্চ মাস থেকেই পরীক্ষামূলক ভাবে দেশের একাধিক রাজ্যে এই সিলিন্ডার ব্যবহার শুরু হয়েছে। এবং চলতি মাস অর্থাৎ ডিসেম্বর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন যায়গায় এই সিলিন্ডার বিতরন শুরু হয়েছে। ৩১শে মার্চ ২০২৪ এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৫০% গ্রাহককে এই সিলিন্ডার পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ আপনার গ্যাস ডেলিভারি বয় এর কাছে খোঁজ নিতে হবে, যে আপনার এলাকায় কবে এই সিলিন্ডার দেওয়া হবে।


Comments


bottom of page